সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৯০০ গ্রাম হেরোইন রাখার মামলায় রফিকুল ইসলাম নামে এক মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবু খান শাহীন কনক আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মাদারপুরের ডিমভাংগা গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে।
রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আনিছুর রহমান। তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০২৮-এর ৩৬ (১) ধারার টেবিলের ৮ (গ) অনুযায়ী আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত রফিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট দুপুরে সলঙ্গা থানার রামারচরের নেছারিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এলাকার সড়কে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে র্যাব-১২। অভিযানের সময় নাটোর থেকে সিরাজগঞ্জগামী সিথি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে বাসের যাত্রী রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ৯০০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া হেরোইনের আনুমানিক মূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এ সময় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়। পরে রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
ঘটনার পর র্যাব-১২-এর ডিএডি মো. আমজাদ আলী বাদী হয়ে সলঙ্গা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে হেরোইন রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রফিকুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে অতিরিক্ত ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।