• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩১ পূর্বাহ্ন

৪৯তম বিসিএস ইস্যুতে বিএনপিকে তীব্র আক্রমণ সাদিকের

newsline24 / ৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
৪৯তম বিসিএস ইস্যুতে বিএনপিকে তীব্র আক্রমণ সাদিকের
৪৯তম বিসিএস ইস্যুতে বিএনপিকে তীব্র আক্রমণ সাদিকের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং তাদের ‘পায়ের তলায় আর মাটি নেই’। ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট থেকে কয়েকজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সাদিক কায়েমের অভিযোগ, রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় নিয়ে ‘ভেরিফিকেশন’-এর নামে যোগ্য প্রার্থীদের চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, মেধাতালিকায় ভালো অবস্থানে থাকা এবং জুলাইয়ের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ৪৯তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পাননি। এ নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সমালোচনা করে ডাকসু ভিপি বলেন, তিনি চেয়েছিলেন বিএনপি পাঁচ বছর ভালোভাবে দেশ পরিচালনা করুক। কিন্তু তাঁর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং দলের মন্ত্রী-এমপিদের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

চাকরিতে রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ তুলে সাদিক কায়েম সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টানেন। তাঁর ভাষ্য, সরকারি চাকরিতে সব নাগরিকের সমান সুযোগ পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব দিয়ে নিয়োগ দেওয়া হলে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিসিএসের পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাঁর দাবি, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় নয়, যোগ্যতা ও মেধাকে প্রধান বিবেচনা করতে হবে। এর আগে ডাকসুর পক্ষ থেকেও বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল পুনর্বিবেচনা করে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছিল।

ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খানও একই ধরনের অভিযোগ তুলে বলেন, বিসিএস ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগে ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে বিরোধী মতের প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, পরীক্ষায় ভালো ফল করা বা নিজ নিজ বিষয়ে প্রথম হওয়া প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে বাদ দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক বৈষম্য তৈরি করবে।

৪৯তম বিসিএসের গেজেট ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ৫৭ জন প্রার্থী। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৬৮ জন প্রার্থী সুপারিশ পেলেও গেজেটে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৬১১ জনকে; অর্থাৎ ৫৭ জনের নাম চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পায়নি। তবে এসব প্রার্থীর প্রত্যেককে বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি।

এ অবস্থায় ডাকসুর পক্ষ থেকে বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও কারণ প্রকাশের দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ইস্যুতে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করা হয়। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সাদিক কায়েম বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে মেধাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তাঁর ভাষায়, মেধার ওপর দলীয় প্রভাব চাপিয়ে দেওয়ার পরিণতি ভবিষ্যতে গুরুতর হতে পারে।

তবে ৪৯তম বিসিএস থেকে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কারণই কাজ করেছে—এমন অভিযোগের স্বতন্ত্র সরকারি ব্যাখ্যা এখনো প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে ডাকসু নেতাদের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার মধ্যে বিষয়টির চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category