শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ন্যূনতম পরিসরও ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়সহ কোথাও স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ ছিল না। শনিবার (১০ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট’-এর চূড়ান্ত পর্বে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, যখন কথা বলা অত্যন্ত কঠিন ছিল, তখনও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন তরুণদের নিয়ে কাজ করেছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সংগঠনটির এ ধরনের উদ্যোগ ছিল অভূতপূর্ব। নানা বাধা পেরিয়ে তরুণদের সম্পৃক্ত রাখা এবং তাদের সৃজনশীল কাজে উৎসাহিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শেখ হাসিনার শাসনামলে গণতান্ত্রিক পরিবেশের সংকট তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, অতীতের অনেক স্বৈরাচারী শাসনামলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অন্তত কিছুটা হলেও কথা বলার সুযোগ ছিল। কিন্তু হাসিনার আমলে সেই পরিসরও পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ভাষায়, ‘ইঞ্চি খানেক ডেমোক্রেটিক স্পেস (গণতান্ত্রিক পরিসর) কোথাও ছিল না।’
তরুণদের মতামত প্রকাশ ও প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন রিজভী। তিনি বলেন, তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনাকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া কঠিন। প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনার কথা বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণদের প্রশ্ন করার সুযোগ তৈরি হলে সেখান থেকেই পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয় উপাদান পাওয়া যাবে।
রিজভীর মতে, তরুণদের ভাবনা, প্রশ্ন ও প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করা গেলে দেশ ও সমাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। এজন্য তরুণদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের যোগাযোগ বাড়ানো এবং তাদের মতামত প্রকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠনটি বিভিন্ন মাত্রায় কাজ করছে। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশেও তরুণদের নিয়ে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এমন উদ্যোগ তরুণদের চিন্তা, সৃজনশীলতা ও অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘আইডিয়া ফেস্ট’-এর চূড়ান্ত পর্বে তরুণদের অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্ব উঠে আসে। রিজভীর বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়—তরুণদের প্রশ্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তাদের ভাবনাকে যুক্ত করা।