রংপুরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতির দায় সরকার নিতে চায় না।
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান সভাপতিত্ব করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।
মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে চায়। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তাঁর ভাষায়, নির্বাচনী কোনো ‘কলঙ্ক’ বর্তমান সরকার নিজের ঘাড়ে নিতে চায় না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে সরকারি পর্যায়ে একাধিক আলোচনা হয়েছে। আগস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং এ জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার কথাও তখন জানানো হয়েছিল।
সভায় রংপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতির উন্নয়নে সভা থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। আগামী মাসের আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই অঞ্চলের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে সুষম উন্নয়নের ধারায় রংপুরকেও এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রংপুর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের উন্নয়নকাজে ইতোমধ্যে ১২৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রংপুর বিভাগের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এসব প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
তিস্তা নদীর প্রসঙ্গও উঠে আসে সভায়। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা নিয়ে সরকার কাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। তবে এসব উদ্যোগের সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা বা সময়সীমা সম্পর্কে সভায় বিস্তারিত জানানো হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা সভায় রংপুর জেলার সংসদ সদস্য, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের সমন্বয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে, তার বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও ভোটারদের প্রত্যাশাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।