রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে গিয়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এক দিনের সফরে মঙ্গলবার সিলেটে যান তিনি। সফর ঘিরে নগরজুড়ে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। পরে তিনি হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারেও যান। সেখানে তিনি কিছু সময় অবস্থান করেন।
এর আগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতারা।
বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউজে যাওয়ার পথে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। পরে সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির সফর উপলক্ষে সিলেট নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করে সিলেট মহানগর পুলিশ। সফরের পাঁচটি ভেন্যু ও তিনটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সফরের দিন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। এর বাইরে আরও ২০০ সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্বে রাখা হয়।
সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম সোমবার রাষ্ট্রপতির সফরের বিভিন্ন ভেন্যু পরিদর্শন করেন। পরে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানান।
রাষ্ট্রপতির সফরের অন্যতম কর্মসূচি ছিল সিলেট সিটি করপোরেশনের আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা। প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় নগরভবনের সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ৮টার দিকে ওসমানী বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রাষ্ট্রপতির রওনা দেওয়ার কথা জানান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অনুষ্ঠানস্থল ও ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়। সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে।
সিলেটের সঙ্গে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর স্মৃতি ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। দুই সুফিসাধকের মাজার দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিয়ারতস্থল হিসেবে পরিচিত। রাষ্ট্রপতির সফরেও এই দুই মাজার জিয়ারত ছিল গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির অংশ।