রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের ভাষ্য, হামলার পেছনে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা নেই এবং সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই ভবনটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ডিএমপির ক্যান্টনমেন্ট অঞ্চলের সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনার সঙ্গে চাঁদাবাজির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। সালমানের স্টুডিও হামলাকারীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না বলেও জানান তিনি।
শনিবার রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির।
ভিডিওতে স্টুডিওর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বেশ কিছু আসবাব ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় স্টুডিওর কয়েকজন কর্মীকে কান্নারত অবস্থায়ও দেখা যায়।
ভিডিওতে স্টুডিওর ভেতরের পরিস্থিতি তুলে ধরে সালমান মুক্তাদির বলেন, হামলায় পুরো স্টুডিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, সৃজনশীল কাজ ও শিল্প-সংস্কৃতির জন্য দেশে এ ধরনের স্টুডিওর সংখ্যা খুব বেশি নয়। ফলে স্টুডিওটির ক্ষতি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক ক্ষতি নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সৃজনশীল কাজ ও কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়েছে।
সালমান বলেন, স্টুডিওটি তাঁর কাছে কেবল একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। এর সঙ্গে অনেক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন ধরনের সৃজনশীল কাজ জড়িত ছিল। হামলার কারণে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি কাজ থামিয়ে দেবেন না বলেও জানান।
তিনি বলেন, তিনি তাঁর পেশা ও সৃজনশীল কাজ চালিয়ে যাবেন—দেশে সম্ভব না হলে দেশের বাইরে থেকেও কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।
ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেডের সঙ্গে মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরেই ভবনটিতে হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হামলায় গোলাম মহিউদ্দিনের লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে আটক করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, ঘটনার প্রকৃত কারণ কী এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।