ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ইস্যু। এ প্রক্রিয়ায় তৃতীয় কোনো দেশের সম্পৃক্ততার প্রয়োজন দেখছে না সরকার।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত চায়। এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং আলোচনা চলছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের আদালতে হওয়া মামলা ও দেওয়া রায়ের বিষয়ও ভারতের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
তথ্য উপদেষ্টার ভাষ্য, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে সরকারের অবস্থান ভারতের কাছে স্পষ্ট। ভারতের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা বন্ধ হয়নি; বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে।’
ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে নিজের বৈঠকের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, ওই বৈঠকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের অন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধিদের বৈঠকেও বিষয়টি আলোচনায় আসছে বলে জানান তিনি।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার বিষয়টিকে মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবেই দেখছে। ফলে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে এ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন নেই বলে সরকারের অবস্থান।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের আলোচনায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বরও জাহেদ উর রহমান জানিয়েছিলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সহজ ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকেও এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল।
এদিকে জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিও সম্প্রতি শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে। ওই বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারতকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়।
শেখ হাসিনাকে ফেরানোর প্রশ্নে বাংলাদেশের অবস্থান তাই একাধিক সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসছে। তথ্য উপদেষ্টার সর্বশেষ বক্তব্যেও সেই অবস্থানের পুনরাবৃত্তি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ তাঁকে ফেরত চায় এবং এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
তবে তাঁকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট আইনগত বিষয় এবং ভারতের অবস্থানের ওপর। বর্তমানে সরকারের প্রকাশ্য অবস্থান হলো—শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে চায় ঢাকা।