• শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০০ পূর্বাহ্ন

লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করব: ডিএনসিসি প্রশাসক

newsline24 / ২৮ Time View
Update : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করব ডিএনসিসি প্রশাসক
লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করব ডিএনসিসি প্রশাসক

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেছেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার লাশের ওপর দিয়ে হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত হবে।’

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি কোনোভাবেই বন্ধ করা হবে না।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মিরপুর-১০ এলাকায়ও অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও ধাক্কাধাক্কি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সিটি করপোরেশনের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি একটি পুলিশ গাড়ি ও উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ভাঙচুরের খবরও পাওয়া গেছে।

ঘটনার সময় আগুন লাগার কারণ নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আবার ডিএনসিসি প্রশাসক অভিযোগ করেছেন, অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতিকে অরাজক করে তুলতে পরিকল্পিতভাবে একটি মসজিদে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এই অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন আরও অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহনকর্মী, সাংবাদিক এবং কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। পুলিশ ও ডিএনসিসির পক্ষ থেকে পৃথক মামলা করার কথাও জানিয়েছেন প্রশাসক।

ঘটনাটিকে পরিকল্পিত বলে দাবি করে প্রশাসক বলেন, এর পেছনে ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ জড়িত। এটি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ; কারা হামলা বা অগ্নিকাণ্ডে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। তিনি জানান, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অভিযান চলাকালে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ডিএনসিসি প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য, সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মিরপুরের ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে ডিএনসিসি প্রশাসন জানিয়েছিল, মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকায় পর্যায়ক্রমে হকার ব্যবস্থাপনা ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ চালানো হবে। মার্চে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছিলেন, পথচারীদের চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আগে জানানো হয়েছিল, মিরপুর-১ ও ১০ নম্বর এলাকায় হকারদের স্থানান্তরের জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের সমন্বয়ে তালিকা করা হয়েছে। একটি প্রতিবেদনে ৮২৫ জন হকারের নাম তালিকাভুক্ত হওয়ার কথা বলা হয় এবং জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রথম ধাপে ২০২ জনকে স্থানান্তরের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

বুধবারের ঘটনায় উত্তেজনার কারণে মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪মুখী সড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং দুপুরের দিকে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে দেখা যায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় ডিএনসিসি প্রশাসকের সঙ্গে মিরপুর জোনের উপপুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, কাফরুল ও মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মইনুল হাসান এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। তাই হামলা বা বাধার কারণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি থামবে না। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, মিরপুরসহ ডিএনসিসির আওতাধীন এলাকায় এ ধরনের অভিযান পর্যায়ক্রমে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category