লং মার্চের কর্মসূচির মাধ্যমে বিরোধী দল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তাঁর দাবি, দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে এর নেতিবাচক প্রভাব বিরোধী দলের ওপরও পড়বে। তাই রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী।
আহমেদ আযম খান বলেন, লং মার্চের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার কোনো চেষ্টা করা উচিত নয়। বিরোধী দলকে এমন কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে কোনো রাজনৈতিক পক্ষই স্বস্তিতে থাকতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দল একপেশে আচরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের বক্তব্য এক ধরনের হলেও সংসদের বাইরে তাদের বক্তব্য ও রাজনৈতিক আচরণে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় রাজনীতিতে মতপার্থক্য ও বিরোধিতা থাকতেই পারে। তবে সেই বিরোধিতা যেন দেশের স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সেদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের পথ বেছে না নেওয়ার আহ্বানও উঠে আসে।
আহমেদ আযম খান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিরোধী দলকে গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও সংযত থাকার প্রয়োজন রয়েছে।
সম্প্রতি বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও লং মার্চ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রীর এই বক্তব্য এল। এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলের বাসাইলে এক সমাবেশেও তিনি বিরোধী দলের লং মার্চ ও আন্দোলনের রাজনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। সেদিন তিনি বিরোধীদের গঠনমূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানান।
শনিবারের বক্তব্যে তিনি আবারও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে এনে বিরোধী দলের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—রাজনৈতিক কর্মসূচি ও ক্ষমতার রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি দেশের স্থিতিশীলতা এবং স্বাভাবিক পরিবেশও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।