রাজবাড়ী জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে গভীর রাতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় শহরের আজাদী ময়দানসংলগ্ন কার্যালয়ের প্রবেশপথের কলাপসিবল গেটে আগুন দেওয়া হয়। এতে গেটের কিছু অংশ, দেয়ালে থাকা ব্যানার ও লাইট পুড়ে গেছে। তবে আগুন কার্যালয়ের ভেতরে ছড়িয়ে পড়েনি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
শনিবার সকালে আগুন দেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে ছুটে আসেন। পরে রাজবাড়ী সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কার্যালয়ের কেয়ারটেকার আতর আলী জানান, রাত ১টার দিকে তিনি কার্যালয়ের সব কক্ষ ও গেটের তালা পরীক্ষা করে বাড়ি চলে যান। তখন সেখানে কাউকে দেখতে পাননি। সকাল সাড়ে ৮টার পর কার্যালয়ের গেটে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি দলীয় নেতাদের জানান।
রাজবাড়ী জেলা বিএনপির নেতারা এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম শিকদার পিন্টু বলেন, ঘটনাটি পরিকল্পিত। তার দাবি, যাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে, তাদের অনেকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আহসান হাবিব বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করতে হবে। তার অভিযোগ, রাজবাড়ীর রাজনৈতিক পরিবেশ অশান্ত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যেই কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মঞ্জুরুল আলম দুলালও ঘটনাটিকে উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেন। তিনি জানান, পুলিশকে সহযোগিতার পাশাপাশি দলীয়ভাবেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে কেরোসিনজাতীয় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করে আগুন দেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।