বরিশালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে আটক হওয়ার পর পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এয়ারপোর্ট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি ছুটিতে থাকা অবস্থায় ওই অভিযানে আটক হন। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহর নির্দেশে তার বিরুদ্ধে এ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার। তিনি জানান, অভিযানে আটক হওয়ার বিষয়টি জানার পরপরই এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর এলাকার একটি বসতঘরে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানের সময় মাদক সেবনের সরঞ্জামসহ চারজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন এয়ারপোর্ট থানার এএসআই দেলোয়ার হোসেন (৩৮), বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার নাহিদ হাসান (২৬), বরিশাল সদর উপজেলার দক্ষিণ কড়াপুর পাঁচগাঁও এলাকার মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং নগরীর পলাশপুর এলাকার ফাতেমা আক্তার নুরজাত (৩০)।
অভিযানের সময় দেলোয়ার হোসেন নিজেকে পুলিশের এএসআই হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক। তবে অভিযানে দেলোয়ার হোসেনের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সদস্যরা পৌঁছালে তাকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্য তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা।
উপপুলিশ কমিশনার সুশান্ত সরকার জানান, এএসআই দেলোয়ার হোসেন গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ দিনের আরআরএল ছুটিতে ছিলেন। ছুটিতে থাকাকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে তার আটকের ঘটনা জানার পরই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের কোনো সদস্য মাদকসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড বা এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
পুলিশের দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ও জনসাধারণের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ঘটনায় এএসআই দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হলেও তার বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় কার্যক্রমের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।