সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার মধ্য তাহিরপুর এলাকায় চার গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ সংঘর্ষে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে থাকলেও দুই পক্ষের লোকজনের বড় জমায়েতের কারণে সংঘর্ষ ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বেলা দুইটার দিকে সংঘর্ষ থামলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সংঘর্ষের সূত্রপাত প্রায় এক সপ্তাহ আগে। মধ্য তাহিরপুর এলাকার মাঠে কয়েকজন কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় মাঠ থেকে একটি বল পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে যাওয়া একটি ইজিবাইকের সামনের কাচে গিয়ে পড়ে। এ নিয়ে ইজিবাইকচালক ও বীরনগর গ্রামের এক কিশোরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতিও হয়।
এর পরদিন তাহিরপুর বাজারে বীরনগর গ্রামের এক যুবককে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দুই ব্যক্তি মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর মধ্য তাহিরপুরের সঙ্গে বীরনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
মঙ্গলবার রাতে তাহিরপুর বাজারে আবারও দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পর রাত ১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদের মাইক থেকে সকালে যার যা আছে, তা নিয়ে মাঠে উপস্থিত থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় পুলিশ এবং দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে।
তবে বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ তীব্র আকার নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে এত বড় ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সময়মতো উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করতে পারলে সংঘর্ষ এড়ানো যেত।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করে। বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন সেখানে জড়ো হওয়ার পর একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০ থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।