কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফরমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামসংবলিত স্লোগান ও মুজিব শতবর্ষের লোগো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে না জানিয়ে ওই ফরম ব্যবহার করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তাঁদের কাছে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরে পৃথকভাবে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
শোকজ পাওয়া দুজন হলেন—প্রতিষ্ঠানের রসায়ন বিভাগের ল্যাব সহকারী মো. ফাহিম মিয়া এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মচারী মো. সাকিবুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষর করা নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অবহিত না করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রমে বিগত সরকারের লোগো ও স্লোগান-সংবলিত ফরম ব্যবহার করা হয়। নোটিশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘আইনের পরিপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার কারণ সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। তাঁদের দেওয়া ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তাঁকে না জানিয়ে ভর্তি ফরমে ওই লোগো ও স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। লিখিত জবাব পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নে অবস্থিত। অভিযোগ ওঠা ভর্তি ফরমের ওপরের অংশে ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’—এমন একটি স্লোগানসংবলিত লোগো ব্যবহারের কথা জানা গেছে। একই ফরমে মুজিব শতবর্ষের লোগোও ছিল।
গত ২১ সেপ্টেম্বর একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নজরে আসে ফরমের বিষয়টি। পরে ওই ভর্তি ফরমের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নজরেও আসে।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, মূল প্রশ্নটি শুধু ফরমে ব্যবহৃত লোগো বা স্লোগান নয়; বরং প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে অবহিত না করে এমন উপকরণ ব্যবহার করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়। শোকজের জবাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এখন সংশ্লিষ্ট দুই কর্মচারীর লিখিত ব্যাখ্যার দিকেই নজর রয়েছে। তাঁদের জবাবের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রশাসনিক বা আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে।