চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানায় বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপির ৩০ নেতাকর্মীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর বিচারিক প্রক্রিয়া চলার পর রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হওয়ায় সোমবার (৫ অক্টোবর) তাদের খালাস দেওয়া হয়।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সপ্তম আদালতের বিচারক মো. আল আমিন এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী আমিনুল ইসলাম ইমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথি ও আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৬ মে ঢাকায় বিএনপি, এলডিপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নেতার জামিন বাতিলের প্রতিবাদে আনোয়ারায় বিক্ষোভের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আনোয়ারা থানায় ২৭ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
মামলাটি তদন্তের পর আরও তিনজনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এর প্রায় দুই বছর পর, ২০১৪ সালের ৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষের মোট সাতজন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে। সোমবার আদালত রায় ঘোষণা করে সব আসামিকে খালাস দেন।
খালাস পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. সেলিম, সাইফুল ইসলাম খান, জয়নাল আবেদীন, জিয়াউল হক, শাহ আলম, নুরুল আলম, মো. হেলাল, এস এম মোজাম্মেল হক, মো. এরশাদ, সাদ্দাম হোসেন, মো. জলিল, মো. আবদুল মান্নান, মো. মুবিন, মো. মাসুদ ও মো. মজিবুর রহমানসহ ৩০ জন। আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র তাদের বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এলডিপির নেতা-কর্মী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শাহাদাৎ হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ বছর আইনি প্রক্রিয়া চলার পর রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। এ কারণে আদালত মামলার সব আসামিকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
মামলাটি দায়েরের পর থেকে অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে এর নিষ্পত্তি হলো। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৩০ আসামিই এ মামলায় খালাস পেলেন।