• সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ন

বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় স্কুলছাত্রী হত্যা, ১৯ বছর পর আসামির ফাঁসি

newsline24 / ১৮ Time View
Update : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় স্কুলছাত্রী হত্যা, ১৯ বছর পর আসামির ফাঁসি
বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় স্কুলছাত্রী হত্যা, ১৯ বছর পর আসামির ফাঁসি

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে হত্যার ঘটনায় ১৯ বছর পর রেজাউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে জামিনে গিয়ে আত্মগোপনে থাকা রেজাউলকে গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হুমায়ুন কবির এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. আমিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রেজাউল ইসলাম রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার অভিরাম নুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। মামলার নথি ও সাক্ষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি আশুলিয়ায় ছিলেন এবং ২০০৭ সালে রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের পর হুমকি

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ২৮ মার্চ পিতৃহারা ও এতিম স্কুলছাত্রী মাহমুদা আক্তার রক্সিকে বিয়ের প্রস্তাব দেন রেজাউল ইসলাম। রক্সি ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রেজাউল তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও হুমকি দিতে থাকেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এর কয়েক দিন পর ২ এপ্রিল সকালে রক্সির ঘরে ঢুকে ধারালো শাবল দিয়ে তার মাথায় একাধিকবার আঘাত করেন রেজাউল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন রাতেই রক্সির মৃত্যু হয়।

একজন স্কুলছাত্রীর ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় শোকের পাশাপাশি ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে হত্যার ঘটনায় রক্সির খালাতো ভাই নুরুল ইসলাম বাবু বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।

তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া

মামলাটি তদন্তের পর ২০০৭ সালের ৪ জুলাই আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আব্দুল আলিম রেজাউল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের ৪ মার্চ আদালত রেজাউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন এবং মামলার বিচার শুরু হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার বাদী, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রেজাউলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেট, তদন্ত কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীসহ মোট ১২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

আদালত সাক্ষীদের জবানবন্দি, মামলার অন্যান্য নথি ও প্রমাণ পর্যালোচনা করেন। বিচার শেষে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপর তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময়ও পলাতক আসামি

মামলার বিচার চলাকালে জামিনে বের হওয়ার পর রেজাউল আর আদালতে হাজির হননি। এরপর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। ফলে রায় ঘোষণার সময়ও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

রায়ে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে রেজাউল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

ঘটনার প্রায় দুই দশক পর এ রায় হওয়ায় মামলাটি দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার একটি উদাহরণ হয়ে থাকল। তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনও পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করাই এখন রায় বাস্তবায়নের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category