কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ‘ঢালাও’ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, নির্দিষ্টভাবে মামলা করা হলে অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হবে। একই সঙ্গে ঘটনাটি নিয়ে ফেসবুকে সালমান মুক্তাদিরের দেওয়া লাইভ ভিডিওও ‘বিতর্কের জন্ম দিয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় জমি নিয়ে বিরোধ এবং দখল-বেদখলের বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো ব্যক্তি বা দলের বিরুদ্ধে সাধারণ অভিযোগ না তুলে নির্দিষ্টভাবে মামলা করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা তদন্ত করবে। তাঁর ভাষায়, সালমান মুক্তাদিরের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল—এমন নির্দিষ্ট ব্যক্তির পরিচয়ও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সালমান এক পর্যায়ে নিজেই বলেছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগকে তিনি সুনির্দিষ্ট নয় বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘বিএনপি চাঁদাবাজ দল’—এ ধরনের ঢালাও অভিযোগের ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
হামলার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন সালমান মুক্তাদির। সেখানে তিনি স্টুডিওতে ব্যাপক ভাঙচুরের চিত্র তুলে ধরেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করেন। একই ভিডিওতে তিনি হামলার সঙ্গে বিএনপির লোকজন জড়িত এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন।
সালমানের ওই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযোগটি যদি সুনির্দিষ্ট হয় এবং মামলা করা হয়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, হামলার ঘটনায় সালমান ‘ভিকটিমাইজড’ হয়েছেন—এ বিষয়টি তারা দেখেছেন।
শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সেখানে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওর পাশাপাশি আবাসন প্রকল্পের অফিস ও আশপাশের স্থাপনাতেও হামলা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হামলার পর সালমান মুক্তাদির নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে স্টুডিওর চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন আসবাব ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের চিত্র দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, স্টুডিওর গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ও ক্লায়েন্টদের কাজের সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্টুডিওর কর্মীদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় বিপুলসংখ্যক লোক সেখানে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। তাদের কয়েকজনের হাতে অস্ত্র ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সবকটি এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ঘটনার কারণ নিয়ে সালমান মুক্তাদিরের বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের প্রাথমিক ধারণার পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ঘটনাটিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করার মতো সুনির্দিষ্ট তথ্য তারা পায়নি। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিউ গিনি প্রপার্টিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, জমি নিয়ে বিরোধ এবং দখল-বেদখলের ঘটনাটি তদন্তের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ ও মামলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার পেছনে চাঁদাবাজি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নাকি জমি-সংক্রান্ত বিরোধ—এ প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনো তদন্তের ওপর নির্ভর করছে। একদিকে সালমান মুক্তাদির বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, অন্যদিকে পুলিশ এখন পর্যন্ত জমি নিয়ে বিরোধকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছে। তদন্তের অগ্রগতির পরই এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।