দায়িত্ব গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে পৌঁছালে রাষ্ট্রপতি তাঁকে স্বাগত জানান। পরে বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিবসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সফরকালে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, জাতিসংঘের মহাসচিব ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
বিশেষ গুরুত্ব পায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ। ওই ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি ভাষণটিকে দূরদর্শী, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও দিকনির্দেশনামূলক হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, জনগণের প্রত্যাশা এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ইস্যুতে দেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, বিশ্বশান্তি, বহুপক্ষীয়তা, ফিলিস্তিন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, নারী ও যুবসমাজের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং মূল্যস্ফীতির মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও ভাষণে উঠে আসে।
রাষ্ট্রপতি মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ও জাতিসংঘে অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুসংহত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে জনস্বার্থ রক্ষা এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এ সফরের গুরুত্ব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও সাক্ষাতে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, সংঘাতপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এসেছে, তা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ : সবার জন্য বাংলাদেশ’ প্রত্যয়ের মধ্যেও জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাতের সময় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে মতবিনিময় হয়। দুই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ের এ সাক্ষাতে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সফর, বৈশ্বিক ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোই আলোচনায় প্রাধান্য পায়।
বঙ্গভবনে সাক্ষাৎ করতে আসায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণ নিয়েও রাষ্ট্রপতি পৃথক অভিনন্দনবার্তা দেন। সেখানে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।