ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে। কেউ উচ্ছেদ করা ফুটপাত আবার দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা বসানোর কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাতের ওপর চকি, মাচা ও অন্যান্য স্থাপনা বসিয়ে মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের দখল বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি ডিএনসিসির অন্যতম বেশি দখল হওয়া এলাকার মিরপুর-১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। এ কাজে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন। উচ্ছেদের পর যাতে আবার ফুটপাত দখল না হয়, সে জন্য স্থানীয় জনগণ, সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, এসব টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকেল ও সন্ধ্যায় ফুটপাতগুলো পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মাইকিংয়ের মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে বসা বা স্থাপনা তৈরির বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে।
ফার্মগেটসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো কিছু ফুটপাত দখল হয়ে আছে বলেও জানান তিনি। এসব এলাকায় এর আগে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিছু জায়গা বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকাগুলোতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফুটপাত দখলের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি করপোরেশনই নিচ্ছে। তিনি নিজে বিএনপির একজন কর্মী উল্লেখ করে বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নিজের উদ্যোগেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার আগে কাউকে জানানো প্রয়োজন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাউকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসী সচেতন হয়ে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করলে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নগরের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং সাংবাদিকরাও এতে অংশ নেন।