ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের কয়েকটি দাবিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধের ঘটনায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাসে হামলার ঘটনাও ঘটে। সোমবার সকালে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের দুই পাশেই যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই এলাকায় যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
অটোচালকদের অভিযোগ, ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। এর প্রতিবাদে তারা সড়কে নেমেছেন। পাশাপাশি সড়কে অভিযান পরিচালনার নামে অটোচালকদের হয়রানি বন্ধ এবং ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
অবরোধ চলাকালে ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাসে হামলার ঘটনা ঘটে। তবে হামলায় বাসটির কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
অটোচালকদের কয়েকজন বলেন, তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা সড়ক ছাড়বেন না। অটোচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, “রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে। অটোচালকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।” তার দাবি, দেশে লাখ লাখ মানুষ অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাই তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন।
এদিকে, অবরোধের প্রভাব শুধু প্রেস ক্লাব এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। সকাল থেকেই রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল প্রায় বন্ধ ছিল। এতে এসব এলাকার নিয়মিত যাত্রীদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। রমনা বিভাগের উপকমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশের সদস্যরা সতর্ক রয়েছেন। অটোচালকদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।
অটোচালকদের অবরোধের কারণে প্রেস ক্লাবসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তাদের দাবিগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কী ধরনের আলোচনা হবে বা অবরোধ কখন প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।