প্রবীণদের সুরক্ষায় আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের
newsline24
/ ২৩
Time View
Update :
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Share
প্রবীণদের সুরক্ষায় আর্থিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ সরকারের
প্রবীণ নাগরিকদের আর্থিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘দীর্ঘায়ুর যুগ: দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করতে ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা’ (দ্য এইজ অব লংজিভিটি: রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং উন্নত চিকিৎসাসেবার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের সামনে যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি দীর্ঘ সময় সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং পারিবারিক সহায়তার কাঠামোকে সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
তিনি বলেন, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার সচেতন ও সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে প্রবীণদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা এবং সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
প্রবীণ বয়সে মানুষের জীবনযাপন যেন নিরাপদ ও সম্মানজনক হয়, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণাকে সামনে রেখে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও শক্তিশালী করার কার্যক্রমও এর সঙ্গে যুক্ত।
প্রবীণদের কেবল সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে—এমন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে তাঁদের সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
প্রবীণ নাগরিকদের দেশের পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁদের দীর্ঘ জীবনের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই বর্তমান বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। ফলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের প্রতি যত্নশীল ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়; পরিবার ও সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—এই তিন স্তরেই প্রবীণদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সমাজের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা প্রয়োজন। বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের প্রয়োজনের ধরনও পরিবর্তিত হয়। তাই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রবীণদের যত্নে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের গুরুত্বও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, তবে ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি সমুন্নত থাকবে, প্রবীণদের প্রতি যত্ন, সম্মান ও মর্যাদাও তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে দেশের সব প্রবীণ নাগরিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁর সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে তরুণ ও প্রবীণ—সব বয়সের মানুষ নিজেদের সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
বাণীর শেষে প্রধানমন্ত্রী ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস-২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেন।