রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে তাঁদের আটক করা হয়। তবে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট সেটি বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য জানানো হয়নি।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় দুটি ককটেল নিক্ষেপের পর দুই মোটরসাইকেল আরোহী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তাঁরা সেখানে প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট অবস্থান করেছিলেন। এ সময় আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ককটেল নিক্ষেপের পর মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান তাঁরা।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে, ওই দুই আরোহী আগারগাঁও হয়ে কাফরুল রোডের দিকে চলে যান। তাঁদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়।
তবে আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এবং ককটেল নিক্ষেপের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা দুই মোটরসাইকেল আরোহীর সংশ্লিষ্টতা কী, তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘটনার পর আশপাশের বিভিন্ন স্থানে থাকা ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের চলাচলের পথ, ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার সামনে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে পুলিশ। তবে হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।