পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির দুই সংসদ সদস্যের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১০টার দিকে জেলা শহরের তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের সমর্থকেরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি এমআর কলেজ মোড়ে পৌঁছালে পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সমর্থকদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। পরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা। কয়েকজনকে লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান করতেও দেখা যায়। সংঘর্ষের কারণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আহত ১৫ জনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে তাদের মধ্যে রোকনুজ্জামান জাপান (৩৫), আব্দুল বাতেন (৪০), শামীম (২৮), জীবন (২২), সাফাত কবির (২১), সাক্ষর (১৮), পাক্কু (২২), ময়নুল (২৮), তপু (১৮), মিলন (১৮), সৌমিক (১৯), ফরহাদ (১৮), করিম আখতার (৪৪), জিসান (১৭) ও নুরনবী চৌধুরীর (৩৮) নাম জানা গেছে। তারা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রংপুরে রেফার করা হয়েছে। আহতদের কয়েকজনের মাথায় আঘাত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে উভয় পক্ষ ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।
এদিকে সংঘর্ষের প্রভাবে প্রায় দুই ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দিনের একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। রোববার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বোদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল হয়েছিল। রাতে সেই বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ এবং কারা প্রথমে হামলা বা সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।