জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের প্রতিবাদে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিএনপিকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে নাসীরুদ্দীনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কেরানীহাট এলাকায় উত্তর সাতকানিয়া বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে কেরানীহাট চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলেন, তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাকে নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। তার বক্তব্যকে ‘কুরুচিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপি ৫ আগস্টের পর গড়ে ওঠা কোনো রাজনৈতিক দল নয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমান দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন। তাই তাকে নিয়ে ‘যেনতেন’ ধরনের মন্তব্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা না চাইলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে আরও কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় কেরানীহাটের সী ওয়ার্ল্ড কনভেনশন হলে উপজেলা এনসিপির উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা এবং যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তারেক রহমানকে ‘বাংলাদেশের নব্য ফ্যাসিবাদের পাহারাদার’ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন বলেন, তারা নতুন স্বপ্নের কথা বললে তাদের ‘বেয়াদব’ তকমা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শতবার বেয়াদব হতে রাজি আছি, কিন্তু একবারের জন্যও চাঁদাবাজ হতে রাজি না।’
বিএনপির সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি—দুই দলেরই সমালোচনা করেন এবং বাংলাদেশকে ‘নষ্টদের’ হাত থেকে রক্ষা করার কথা বলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
এ ছাড়া নির্বাচন হওয়ার পর চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস বন্ধ হওয়ার পরিবর্তে কেন বাড়ছে—এমন প্রশ্নও তোলেন নাসীরুদ্দীন। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি।
তার এই বক্তব্যের পরই স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্রতিবাদে মাঠে নামেন। রাতেই কেরানীহাটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে তারা বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।