বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের নতুন সময়সূচি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লি সফরে যেতে পারেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তবে সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বাংলাদেশ বা ভারতের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এর আগে তারেক রহমানের ভারত সফরের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার নতুন করে সফরের সময় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সম্ভাব্য তারিখ ঠিক করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ অথবা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দিল্লিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর সফর নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের সুযোগ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে তারেক রহমানের ভারত সফর বাস্তবে হবে কি না, সেটি কয়েকটি অমীমাংসিত দ্বিপক্ষীয় ইস্যুর অগ্রগতির ওপরও নির্ভর করতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ। এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান এবং ভারতের অবস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য সফরের আগে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কোনো ধরনের অগ্রগতি হয় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
এরই মধ্যে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রকাশ্য যোগাযোগের একটি ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। বার্তায় তিনি মোদির সুস্বাস্থ্য ও সাফল্য কামনা করেন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান।
দুই নেতার এই বার্তা বিনিময়কে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক যোগাযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
তবে সফরের সম্ভাব্য সময় নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা নেই। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেটি মূলত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে। শেষ পর্যন্ত সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করতে হলে দুই দেশের পারস্পরিক সম্মতি এবং আলোচনায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অগ্রগতি বিবেচনায় নিতে হবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগের নতুন একটি পর্বের সূচনা করতে পারে। সফরটি হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সীমান্ত, বাণিজ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।