দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের জন্য অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিকে দায়ী করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারি এমপি। তাঁর দাবি, ওই দুই সময়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জ্বালানি খাতে বর্তমান সংকটের পেছনে অতীতের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আগের সরকার ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন নীতির ফলেই আজ জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
জ্বালানি সংকট নিয়ে দেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও নানা বক্তব্য এসেছে। বিভিন্ন পক্ষ সংকটের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কারণ তুলে ধরছে। এর মধ্যে আমদানি, সরবরাহ ব্যবস্থা, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়েও অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন আব্দুল বারি। তিনি বলেন, মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষা বিনা মূল্যে করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ছেলেদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কৃষিপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি এসব এলাকার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পণ্য বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি করার বিষয়েও সরকার পরিকল্পনা করছে।
আব্দুল বারি বলেন, উত্তরাঞ্চলে বিদ্যমান কৃষিভিত্তিক অঞ্চলগুলো কীভাবে সংরক্ষণ করা যায় এবং সেগুলোকে উৎপাদন ও রপ্তানির কাজে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়েক দিন আগে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন।
তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক জোন গড়ে উঠলে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগও বাড়তে পারে। এতে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএন ওয়াসিম ফিরোজ এবং ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন।
অনুষ্ঠানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।