চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর এলাকায় অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানোকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জাবেদ (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার জাবেদ বন্দর থানার আদর্শপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল খবিরের ছেলে। নিহত নারীর নাম সানজু বিবি (৩৫)।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বুধবার সকাল ১০টার দিকে বন্দর এলাকায় অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানোকে কেন্দ্র করে জাবেদের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী সানজু বিবির কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে জাবেদ ছুরি দিয়ে স্ত্রীর গলায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ছুরিকাঘাতে সানজু গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে জাবেদ সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা আহত সানজুকে দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বন্দর থানার পুরাতন মার্কেট এলাকায় অভিযান চালায় এসআরবি-৭-এর একটি দল। অভিযান চালিয়ে ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই জাবেদকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়। পরে তাঁর বসতঘরের সামনে একটি কাঁঠালগাছের নিচ থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার করা ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা তদন্তের অংশ হিসেবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে অনলাইন জুয়ায় অর্থ হারানোর বিষয়টি কতটা দায়ী এবং দাম্পত্য কলহের অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জাবেদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ কারণ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি তদন্ত শেষ হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হবে।