রাজধানীর গুলিস্তানে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালত উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশের পর ২৭ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়।
আদালতে ২৭ আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করেন আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত। শুনানিতে তিনি আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন। তার বক্তব্য, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই আসামিরা জাসদ কার্যালয়ে বৈঠক করতে গিয়েছিলেন। তাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। এ সময় পুলিশের দেওয়া অনুমতিপত্রও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, আসামিরা অরাজকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির উদ্দেশ্যে সেখানে বৈঠক করছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ হিসেবে কাজ করছিলেন। আসামিদের জামিন দেওয়া হলে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও আদালতকে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।
দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ২৭ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই অভিযানে মোট ২৭৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে পরদিন রোববার আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম তাদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেলহাজতে রাখার আবেদন করেন।
আদালতে দেওয়া পুলিশের আবেদনে বলা হয়, জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ওই ব্যক্তিরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং অস্থিতিশীল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাস্থলে আসার বিষয়ে আটক ব্যক্তিদের কেউ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাদের কেউ কোনো ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন—এমন প্রাথমিক ধারণার কথা উল্লেখ করে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়।
মামলার পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে। বর্তমানে ২৭ আসামিই আদালতের আদেশে কারাগারে রয়েছেন।
আসামিরা হলেন: মো. দিনারুল আলম (৫০), ইমান আহম্মেদ (৪৫), মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজাহান সিরাজ (৩৭), জয় সরকার (৩১), মো. মিরাজ আহমেদ (১৯), মো. মিরাজ মল্লিক (৩৯), মো. রবিউল ইসলাম (৪২), মিলন কুমার (৩৯), মো. কাউসার হোসেন (৫০), শ্রী অন্তর শিল (৪০), জালাল উদ্দিন মণ্ডল (৫৫), আবদুল লতিফ (৪৬), শামীম আহমেদ (৩০), আহম্মেদ আহসান হাবিব (৪৩), মো. সুজন আলী (৩২), মো. তরিকুল ইসলাম (৩৭), মো. সাইফুল্লার সাদেক (৪৩), নয়ন আলী (৩০), সাজিদুল ইসলাম (৪০), তাজুল ইসলাম (৩৪), নিস্কর সম্রাট হোসেন তালুকদার (৪৩), আনোয়ার হোসেন (৫২), মো. আলমগীর হোসেন (৪৫), মো. আল আমিন হাওলাদার (৩৯), মো. তুষার আলী (৫০), মো. রাসিদুল হক (৪৪) ও মীর মুক্তিসুর রহমান (৫১)।