জামালপুরের বকশীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের চাপায় শাশুড়ি ও পুত্রবধূর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের নিলাক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন একই গ্রামের বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসটি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন নিলাক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া গ্রামের উফেজা বেগম (৬৫) ও তাঁর পুত্রবধূ ফরিদা বেগম (৩৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে তাঁরা সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা শান্তি পরিবহণের একটি যাত্রীবাহী বাস তাঁদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বাসটি ঢাকা থেকে বকশীগঞ্জ হয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারীর দিকে যাচ্ছিল। ভোরের দিকে নিলাক্ষিয়া ঠাকুরপাড়া এলাকা অতিক্রম করার সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা উফেজা ও ফরিদাকে চাপা দেয় বাসটি। আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। তবে কী কারণে বাসটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা দুজনকে চাপা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয় এবং বাসের হেলপার মহিউদ্দিনকে আটক করে পুলিশ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকবুল হোসেন জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এর হেলপারকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয়ভাবে শোকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ, বাসটির চালকের অবস্থান এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঢাকা-বকশীগঞ্জ মহাসড়কের ওই অংশে দুর্ঘটনাটি কী পরিস্থিতিতে ঘটেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার কথা। পুলিশি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে এ ঘটনায় পরবর্তী ব্যবস্থা।