বিরোধী দল গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করতে নতুন করে চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের কিছু বক্তব্য, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও আচরণের সঙ্গে অতীতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া রাজনৈতিক শক্তির কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) লক্ষ্মীপুরে একটি নদী-খাল তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নে ওয়াপদাখালের তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এ্যানি। সেখানে তিনি বিরোধী দলের রাজনৈতিক ভাষা ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যেভাবে গালিগালাজ ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, সেটিকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বলা যায় না। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের রাজনৈতিক আচরণ সাধারণ মানুষ গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
এ্যানির অভিযোগ, ১১ দলের দাবি মেনে না নেওয়া হলে বোমাবাজি ও ককটেলবাজি বন্ধ হবে না—এমন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়।
বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গও তোলেন। এ্যানি দাবি করেন, ৫ তারিখে দেশ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিরা বাইরে থেকে গাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও ঝটিকা মিছিলের মতো কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান বিরোধী দলের কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য ও কার্যক্রমের মিল রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ্যানি আরও বলেন, দেশের গণতন্ত্র, রাষ্ট্র ও তাঁর ভাষায় তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁদের দল আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রাজপথে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং অতীতেও রাজপথে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেছে। ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক বিরোধ রাজপথে মোকাবিলা করার কথা জানান তিনি।
শপথ গ্রহণের দিন বিরোধী দলের সংসদে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টিও বক্তব্যে উল্লেখ করেন পানিসম্পদমন্ত্রী। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং সংসদে ভিন্নমত, বিতর্ক ও আলোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অংশ। কিন্তু বিরোধী দলের বর্তমান আচরণকে তিনি সেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে বলে মন্তব্য করেন।
এ্যানি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণের প্রসঙ্গ টেনে বিরোধী দলের সঙ্গে অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান থেকে বিরোধী দল আগামী পাঁচ বছর সরকারকে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে দিতে চায় না।
বিরোধী দলের সংসদীয় বক্তব্য ও মাঠের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও পার্থক্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ্যানির ভাষ্য, সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য তুলনামূলকভাবে শালীন হলেও সংসদের বাইরে সরকার ও সরকারি দলের বিরুদ্ধে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাছিবুর রহমান, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান এবং সদর (পূর্ব) উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাইন উদ্দিন চৌধুরী রিয়াজসহ স্থানীয় নেতারা।
পানিসম্পদ মন্ত্রীর বক্তব্যে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে—বিরোধী দলের রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণের সমালোচনা, সহিংস কর্মসূচির অভিযোগ এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দাবি। অনুষ্ঠানে তিনি এসব অভিযোগের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধ মোকাবিলায় রাজপথে থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।