কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় টানা তিন দিনে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত এসব ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সর্বশেষ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে বাবার কাছে ২০০ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে এমদাদ হোসেন রাছেল (৩৫) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
রাছেল তাজপুর গ্রামের ডাব ব্যবসায়ী আহাদ হোসেনের বড় ছেলে। অভিযুক্ত তার ছোট ভাই ইমরান হোসেনের বয়সও ৩৫ বছর। তিনি শিল্পনগরীর আল্লারদর্গায় একটি পারটেক্স কোম্পানিতে চাকরি করেন বলে জানা গেছে।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার চর) গ্রামে মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে টেঙ্গুর (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সংঘর্ষের সময় সড়কির আঘাতে তার মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত দৈয়ব মন্ডলের ছেলে।
ওই সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হন। স্থানীয়রা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়া হয়। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে আরও বিস্তারিত তদন্ত করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর একদিন আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়নের কামালপুর সাতবিল মাঠ এলাকায় একটি হেরিংবোন সড়কের পাশ থেকে খড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার পরিচয় রাজা হোসেন (২৫) হিসেবে শনাক্ত হয়। তিনি কামালপুর গ্রামের ইমাম আলীর ছেলে।
পুলিশের ধারণা, মরদেহটি দুই থেকে তিন দিন আগের। শরীরের বিভিন্ন অংশ শিয়ালে ক্ষতবিক্ষত ছিল। এ ঘটনায় রাজার বন্ধু একই গ্রামের সফেদ হোসেনের ছেলে রিফাছ হোসেনকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, তিন দিনে পৃথক তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে আরও অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারিও চালানো হচ্ছে।
টানা তিন দিনে তিন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দৌলতপুরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।