কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো কর্মকর্তা বা জনপ্রতিনিধি অনিয়ম করলে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি প্রয়োজনে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে সতর্ক করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের ১ হাজার ১৭০ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হয়। সরকারি কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এসব কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদের সরকারি সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় আনতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্ব বরদাশত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেন কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। দল, মত ও পথের পার্থক্য না করে এবং জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দুর্নীতিমুক্তভাবে কার্ড বিতরণ করতে হবে।
কায়সার কামাল বলেন, কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা ও নির্দেশনা হলো—যাদের প্রকৃতভাবে সহায়তা প্রয়োজন, তাদের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। কোনো পর্যায়ে অনিয়ম, বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কার্ড বিতরণের নিয়ম ও নির্দেশনা কেউ লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী জনগণ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করতে পারবেন।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অতীতে কিছু ভুলত্রুটি হয়েছিল বলেও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওইসব সমস্যা চিহ্নিত করে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের শুরু থেকেই অনিয়ম ঠেকাতে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে বিতরণ করা হবে না। সরকারি সহায়তার ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তাকেই গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল হক, নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম হেলালী, জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
দুর্গাপুরে ১ হাজার ১৭০ কৃষকের হাতে কার্ড বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রমের স্থানীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। সরকারি সহায়তা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে স্বচ্ছভাবে পৌঁছে দিতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনুষ্ঠানে।