বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ৭টায় ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম।
রোটনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন এনামুল হক শামীম। সেখানে তিনি প্রয়াত এই নেতাকে নিজের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা, ভাই এবং সুখ-দুঃখের সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেন।
শোকবার্তায় এনামুল হক শামীম লেখেন, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আমাদের সকলের অত্যন্ত প্রিয়, আমার ভাই, সহযোদ্ধা, সুখ-দুঃখের সাথী, পরম স্নেহের মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন আমাদের মাঝে আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।’
রোটনকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের এবং রাজপথের সহযোদ্ধাকে হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এত দ্রুত রোটন আর তাঁদের মাঝে নেই, তা ভাবতেও তাঁর কষ্ট হচ্ছে।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দায়িত্ব পালনের পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় হন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতায় রোটন পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী রাজনীতিতেও আগ্রহ দেখান। চট্টগ্রামের রাউজানের এই রাজনীতিবিদ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তথ্য থেকে নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি বোঝায় না।
২০২১ সালে তাঁকে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও নেতাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা এনামুল হক শামীমের শোকবার্তায় উঠে এসেছে। তবে কলকাতার যে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেটির নাম, তাঁর বয়স এবং মরদেহ দেশে আনা বা দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়নি।