ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে নতুন সময় দেওয়া হয়েছে।
রোববার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সিআইডি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলির শিকার হন ওসমান হাদি। আনুমানিক দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে দুষ্কৃতকারীরা তাকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। শুরুতে মামলাটি হত্যাচেষ্টা হিসেবে তদন্ত করা হলেও হাদির মৃত্যুর পর মামলার ধারায় পরিবর্তন আসে। তার মৃত্যুর দুই দিন পর, ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা, অর্থাৎ হত্যার ধারা, যুক্ত করার আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ।
এরপর মামলাটির তদন্তে অগ্রগতি হিসেবে গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ওই চার্জশিট দাখিল করেন।
তবে ডিবির তদন্তে সন্তুষ্ট হননি মামলার বাদী। চার্জশিটে থাকা তথ্য ও তদন্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ডিবির দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্য ছয়জন পলাতক বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনকে ঘিরে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে। ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিল হলে তদন্তে নতুন কোনো তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কিংবা আগের অভিযোগপত্রের বিষয়ে সিআইডির অবস্থান আদালতের সামনে স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এরপর আদালত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মামলার পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।