মেহেরপুরে খুলনার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) তাজুল ইসলামের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে চাঁদা দাবি ও প্রতারণার অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় ব্যবহৃত সিমের সূত্র ধরে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেহেরপুর শহরের ঘোষপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিহাদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। তিনি ওই এলাকার নুর ইসলামের ছেলে। এর আগে শহরের মহিলা কলেজ এলাকা থেকে একই চক্রের আবির নামে আরও একজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে আবির দুই দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আলীরাজ বিশ্বাস গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জিহাদের ভাই বিপুল দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে তিনি মেহেরপুরে থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি চক্র গড়ে তুলেছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রতারণার কৌশল হিসেবে খুলনার সাবেক এসপি তাজুল ইসলামের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করা শুরু করে চক্রটি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রের সদস্যরা মেহেরপুরের কয়েকজনের কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় ব্যবহার করায় বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দেয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের জন্য সিম সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আবির ও সুজন নামে দুই যুবককে। পরে সুজন এক সিম বিক্রেতার কাছ থেকে কৌশলে ১৮টি সচল সিম সংগ্রহ করে জিহাদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এসব সিমের একটি নম্বর ব্যবহার করেই খুলনার সাবেক এসপির পরিচয়ে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
চাঁদা দাবির বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ডিবির বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে জিহাদ ও আবিরকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মামলার তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণার পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। চক্রটি কীভাবে ভুক্তভোগীদের নির্বাচন করত, কীভাবে পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করত এবং অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা কী ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, জিহাদ ও আবিরের বাইরে এই চক্রে আরও কয়েকজন সদস্য থাকতে পারেন। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কারও সম্পৃক্ততাকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত বলা যাচ্ছে না।
মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান খান বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারণায় ব্যবহৃত সিমের সূত্র ধরে চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। জিহাদকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে পুলিশ সুপারের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর সদস্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মোবাইল ফোনে অর্থ দাবি করা হলে তা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করা গেলে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।