• বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
সবার মত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাসানাতের প্রভাবে দুই নেতা ‘ক্রসফায়ারে’: সাবেক ডিআইজির জবানবন্দি স্থানীয় নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু হবে, অনিয়মের দায় নেবে না সরকার আদালতে আসতে পারেননি পরীমনি, পেছাল মাদক মামলার শুনানি সাদিক কায়েম মেয়েদের প্যান্ট-জার্সি পরিয়ে মাঠে নামিয়ে গর্ব করে: চরমোনাই পীর শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে: তথ্য উপদেষ্টা নিয়োগপত্রের দাবিতে জামালপুরে ৫১ শিক্ষকের অনশন চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীর পরিচয় অপরাধী, ছাড় নয়: আইজিপি রংপুরে উন্নয়নের সুফল মিলবে সাড়ে চার বছরে: প্রতিমন্ত্রী বঙ্গভবনে প্রথম সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

উত্তরায় জন্মদিনের আয়োজন, ১৫ জনকে রিমান্ডে

newsline24 / ৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
উত্তরায় জন্মদিনের আয়োজন, ১৫ জনকে রিমান্ডে
উত্তরায় জন্মদিনের আয়োজন, ১৫ জনকে রিমান্ডে

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের সময় গ্রেপ্তার ১৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে ১৪ জনকে তিন দিন করে এবং ফারজানা নামে ২১ বছর বয়সী এক নারীকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন নিশ্চিত করেছেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন আসামিদের রিমান্ডে নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ থেকে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করা হয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ২০ নম্বর সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়। ওই বাসাটি বরগুনা-২ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের বলে জানা গেছে। সেখান থেকেই ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের অভিযোগ, সেখানে শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে লোকজন জড়ো হয়েছিল এবং একই সঙ্গে নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল। মামলার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের ষড়যন্ত্র করছিলেন।

তবে আসামিপক্ষ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শুনানি শেষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর মক্কেলরা শুধু শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, এমন আয়োজনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অভিযানে নথিপত্র উদ্ধারের দাবি পুলিশের

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানের সময় বাসাটির একটি কক্ষের টেবিলের ড্রয়ার থেকে ২০ জনের নাম ও জীবনবৃত্তান্তসংবলিত ২০ পৃষ্ঠার কাগজ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ব্যক্তিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে পদপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

উদ্ধার করা কাগজপত্রে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের লোগো, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এসব নথি ও অন্যান্য আলামত মামলার তদন্তে যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে উদ্ধার করা কাগজপত্রের সম্পর্ক এবং নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততা কী ছিল, তদন্তেই তা স্পষ্ট হওয়ার কথা।

যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইয়াকুব হোসাইন রাজিব (২৬), আরাফাত মিয়া (২২), রিফাত হাওলাদার (১৯), হৃদয় হাসান (২১), ফাহিম (১৯), রাজিব হোসেন রানা (২৪), মো. ফিরোজ (২৬), মো. আরিফ (২৮), মো. ওমর ফারুক (২১), আব্দুল্লাহ আল আমান (১৯), মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান (২১), মো. সোহানুর হোসেন শাহীন (২২), মো. হাসিব (১৯), মো. হাসিব মিয়া (২৩) এবং ফারজানা (২১)।

এর মধ্যে ফারজানাকে এক দিনের এবং বাকি ১৪ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মামলার রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, অর্থের জোগানদাতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। সেই কারণেই প্রথমে আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।

আদালত শুনানি শেষে পুলিশের আবেদন পুরোপুরি মঞ্জুর না করে ১৪ জনের ক্ষেত্রে তিন দিন এবং ফারজানার ক্ষেত্রে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। এখন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে পুলিশ কী ধরনের তথ্য পায় এবং মামলায় পরবর্তী সময়ে আর কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category