ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। পৃথক ফেসবুক পোস্টে তাঁরা বাঁধনের পাশে থাকার কথা জানান এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি তোলেন।
আসিফ মাহমুদ মঙ্গলবার সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা জানান। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে একই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানান সারজিস আলম।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে বর্তমানে ইতালিতে রয়েছেন বাঁধন। সোমবার রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতালির একটি পার্কে গেলে তিনি হামলা ও হেনস্তার শিকার হন বলে জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে বাঁধন দাবি করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। ঘটনাটি ইতালির মাটিতে ঘটায় এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দেশটির আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা এবং তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই রাজনৈতিক শক্তির কিছু নেতা-কর্মী এখনো হামলা ও সহিংসতার পথ অনুসরণ করছে।
জুলাইয়ের আন্দোলনে বাঁধনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তাঁর মতে, দেশের মানুষের অধিকার এবং স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন প্রকাশ্যে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। সেই কারণে তাঁর ওপর হামলার ঘটনা প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, হামলা, ভয় দেখানো বা সহিংসতার মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ইতালিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বাঁধনের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তার বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির এই মুখপাত্র বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো ধরনের হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
অন্যদিকে সারজিস আলম তাঁর ফেসবুক পোস্টে বাঁধনের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাঁধনের উদ্দেশে লেখেন, তিনি দেশের মানুষের মুক্তির জন্য এবং স্বৈরাচার থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন। হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি হামলাকারীদের কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন।
সারজিস আলম তাঁর পোস্টের শেষাংশে বাঁধনের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, তাঁরা সবাই বাঁধনের সঙ্গে আছেন এবং ‘পুরো বাংলাদেশ’ তাঁর সঙ্গে রয়েছে।
বাঁধনের ওপর হামলার এই ঘটনা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসরে তাঁর অংশগ্রহণের সময় ঘটল। ফলে বিষয়টি শুধু একজন অভিনেত্রীর ওপর হামলার অভিযোগ হিসেবে নয়, বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার প্রশ্ন হিসেবেও সামনে এসেছে। এখন হামলার অভিযোগের বিষয়ে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস এ ঘটনায় কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর থাকবে।