রাজধানীতে আগুন-বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি বের হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা সন্ত্রাস, অগ্নিসংযোগ ও বোমাবাজির সঙ্গে জড়িত, তারা দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
রিজভী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার পেছনে পরিকল্পিত তৎপরতা রয়েছে। তাঁর দাবি, সংবাদমাধ্যমে বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসার বিষয়টি উঠে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ওই নম্বর কার এবং কার নির্দেশে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ব্যবহৃত নম্বরটি প্রতিবেশী দেশের। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ঘটনাগুলোর পেছনে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ধরেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন রিজভী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি ও গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার সাধারণ মানুষকে কষ্ট দিতে চায় না এবং জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দেশে নৈরাজ্য ও দুর্নীতি দেখেছে মানুষ। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অংশ দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। এ্যানি বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজনৈতিক আন্দোলনও চালিয়ে যাবে বিএনপি।
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, সরকারকে চাপে ফেলতে একটি মহল বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগসহ সহিংস কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে তারা মনে করেন। তাঁর দাবি, এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসনের যে কোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলগুলোর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং অতীতের রাজনৈতিক অবস্থানের পুনরাবৃত্তি না করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও নৈরাজ্যের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।