• বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন

মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর গুরুতর অনৈতিকতার অভিযোগ

newsline24 / ৫৩ Time View
Update : শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬
মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর গুরুতর অনৈতিকতার অভিযোগ
মৎস্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর গুরুতর অনৈতিকতার অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আবরারের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, অসদাচরণ, নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক এবং পারিবারিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী। ৪০তম বিসিএসের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি।

গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের একটি অনুলিপি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের হাতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ও তুলে ধরে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী নারী নিজেও একজন সরকারি কর্মকর্তা। তবে সামাজিক ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় তাঁর নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করা হয়েছে।

একাধিক নারীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

অভিযোগে আবদুল্লাহিল আবরারের বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক আলাপচারিতা, বার্তা ও বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট আদান-প্রদানের অভিযোগ করা হয়েছে। স্ত্রীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড একাধিকবার তাঁর নজরে এলেও প্রতিবাদ করার পর তাঁকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মুখে পড়তে হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবরার রাত জেগে নেশা করতেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ রাখতেন। এ কারণে পারিবারিক জীবনেও নানা ধরনের অশান্তি তৈরি হয় বলে দাবি করেছেন তাঁর স্ত্রী।

তবে এসব অভিযোগের কোনোটিই এখন পর্যন্ত তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের পর্যায়ে রয়েছে এবং মৎস্য অধিদপ্তর উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

নাবালিকা আত্মীয়কে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ

লিখিত অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশে আবরারের বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীর বড় বোনের নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় গোপন করে অনলাইনে যোগাযোগ ও অনৈতিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটি বর্তমানে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। প্রায় দুই বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেঞ্জারে ওই যোগাযোগ চলেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। একপর্যায়ে মেয়েটির কাছে আপত্তিকর ছবি ও কনটেন্ট পাঠানো এবং সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ভিডিও কলে কথা বলার সময় মেয়েটি ওই ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারে এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁর খালা।

এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বিশেষ করে অভিযোগে একজন নাবালিকার কথা থাকায় বিষয়টি সত্যতা যাচাই করে আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে কোনো তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

কোচিং ব্যবসার অভিযোগ

সরকারি চাকরির পাশাপাশি আবদুল্লাহিল আবরার অনলাইনে ‘আস্থা’ নামে বিসিএস কোচিং পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তাঁর স্ত্রী। তাঁর দাবি, সরকারি চাকরির বিধিবিধানের সঙ্গে এই কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, ওই কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া কয়েকজন নারীকে কেন্দ্র করেও আবরার অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে এবং সেগুলোর সত্যতা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার বিষয়।

আলাদা থাকছেন স্ত্রী

অভিযোগকারী জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানার পর তিনি দুই বছরের সন্তানকে নিয়ে আলাদা বসবাস করছেন। তাঁর দাবি, দাম্পত্য জীবনে তিনি স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে অবহেলা এবং মানসিক চাপের শিকার হয়েছেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, প্রাণনাশ এবং তালাকের হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করার পর সেটি প্রত্যাহারের জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবরার তাঁর সরকারি চাকরিজীবী স্ত্রীর কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সহকর্মীদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে তাঁর পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

ডিজিটাল প্রমাণ থাকার দাবি

স্ত্রীর দাবি, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডিজিটাল প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। এর মধ্যে মেসেজ, কথোপকথনের স্ক্রিনশট এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এসব তথ্যের কিছু অংশ সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের কাছেও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে ডিজিটাল তথ্যের সত্যতা, উৎস এবং প্রাসঙ্গিকতা যাচাই করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে এসব তথ্য যাচাই করতে পারে।

অভিযোগ অস্বীকার আবরারের

অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহিল আবরারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে সবকিছু বানোয়াট বলে দাবি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সমর্থনে তথ্য-প্রমাণ থাকার কথা জানানো হলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তাঁর বাবা আসাদুজ্জামান আসাদ ও মা দিলরুবা পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ফলে অভিযোগের বিভিন্ন দিকের সত্যতা নির্ধারণ এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

৩১ আগস্ট শুনানির কথা

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক জানিয়েছেন, আবদুল্লাহিল আবরারের স্ত্রীর স্বাক্ষর করা একটি অভিযোগ তাঁদের কাছে রয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, আগামী ৩১ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানির দিন নির্ধারণ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ এবং সরকারি কর্মচারীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না—এসব বিষয় পর্যালোচনার পর কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

অভিযোগটি শুধু ব্যক্তিগত দাম্পত্য বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এতে একজন সরকারি কর্মকর্তার পেশাগত আচরণ, সরকারি চাকরির বিধিবিধান এবং একজন নাবালিকাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে সত্যতা নির্ধারণ করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে অভিযোগের কোনো অংশকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

চাইলে এটিকে আরও জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানী রিপোর্টিং স্টাইলে বা অনলাইন নিউজ পোর্টালের জন্য বেশি পাঠকবান্ধব, শক্তিশালী ওপেনিংসহ পুনর্লিখন করতে পারি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category