পুরান ঢাকার চকবাজারের ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার, রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে তিনি জানান, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্তের পর জানা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রশাসক দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগ তৈরির একটি কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর আশপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানা ছিল। আগুনের কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
আবদুস সালাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। তবে উদ্ধার ও অন্যান্য কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, জরুরি সেবাকর্মীদের কাজের সুযোগ দেওয়া হলে পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া সম্ভব।
চকবাজারসহ পুরান ঢাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশাসক বলেন, কেমিক্যাল-সংক্রান্ত দুর্ঘটনা কমাতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কেমিক্যাল লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে এ ধরনের বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের সময় পানির স্বল্পতা ও পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও কথা বলেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, এলাকার বর্তমান সংকটাপন্ন অবকাঠামো একদিনে তৈরি হয়নি। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন কাজ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পুরান ঢাকার পুকুরগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, মার্কেট ও আবাসিক ভবনে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার স্বার্থেই প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রাখা উচিত। তাঁর ভাষ্য, আশপাশের ভবন ও মার্কেটে যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকলে আগুনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হতো। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে আবদুস সালাম বলেন, চকবাজারের সড়কগুলো দখলমুক্ত থাকলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। তাই অবৈধভাবে দোকান বসানো থেকে বিরত থাকা এবং জরুরি চলাচলের জন্য সড়ক ও ফুটপাত উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও চান।
এর আগে গতকাল বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে মনজুর খান প্লাজার ছয়তলায় আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।