নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় সাত থেকে আট লাখ টাকা হারানোর পর এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের তিন কর্মী টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় ছিনতাই হওয়া অর্থের মধ্যে এক লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আবাদপুকুর শাখার অফিস সহায়ক রাসেল বাবু (২২), দুই ঋণ কর্মকর্তা সুজন (২৭) ও আবু তালেব (২২), স্বপন (২৮), হাসান আলী (২৫) এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী। রাসেল, সুজন ও আবু তালেব ওই এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়ার আদমদীঘি রেলগেট এলাকা থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা সংগ্রহ করেন ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল। পরে তাঁরা মোটরসাইকেলে করে রানীনগরের আবাদপুকুর বাজারে শাখা কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হন।
দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে রানীনগরের পারইল বাজার পেরিয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেলে আসা ব্যক্তিরা তাঁদের পথ আটকান। এ সময় লোহার রড দিয়ে মারধর করে তাঁদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রানীনগর থানা-পুলিশ। ওই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত নিবন্ধনবিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয় এবং এর মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, বুধবার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা জয়পুরহাটের আক্কেলপুর ও দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে স্বপন ও হাসানকে গ্রেপ্তার করেন। তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া এক লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার রানীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যাংকের দুই ঋণ কর্মকর্তা ও এক অফিস সহায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে রাসেল, সুজন ও আবু তালেবের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন গ্রাহকের টাকা ব্যাংকে জমা না দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, অনলাইন জুয়ায় প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা হারানোর পর তাঁরা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক ফিরোজ হোসেনের টাকা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনার পর মঙ্গলবার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটানো হয়।
ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ছিনতাই হওয়া বাকি টাকা উদ্ধার এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ মোট ছিনতাই হওয়া টাকার তুলনায় কম হওয়ায় বাকি অর্থের অবস্থান শনাক্ত করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।