বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমানে ধনী দেশগুলোও তাদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে বিদেশি সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রে পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দেশের মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও সুপেয় পানি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাৎ শেষে ইউনিসেফের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, দেশের সব মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে তারা সহযোগিতা করবেন।
মন্ত্রী বলেন, মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপদ পানির চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, উজানে পানি আটকে দেওয়ার কারণে দেশের নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। এর ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি লবণাক্ততাও বাড়ছে। দক্ষিণাঞ্চলে এ সমস্যার প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। সেখানে মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদেশি সহায়তার প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অতীতে পাওয়া সহায়তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়নি। একই সময়ে বিশ্বের ধনী দেশগুলোও তাদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। এই বাস্তবতায় দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পাওয়া সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত ১৭ বছরের অনিয়ম ও দুর্নীতি বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার এসে বন্ধ করেছে। সরকার দুর্নীতি বন্ধ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইউনিসেফের সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; পানির উৎস, নদীর প্রবাহ ও লবণাক্ততার মতো পরিবেশগত বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় নিতে হয়। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য সুপেয় পানির সুযোগ বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।