• বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৯ অপরাহ্ন

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ প্রস্তুতি

newsline24 / ১৫ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ প্রস্তুতি
রূপপুরের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ প্রস্তুতি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ হয়েছে। এখন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অনুমোদনের অপেক্ষা। অনুমোদন মিললে রিঅ্যাক্টরে ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ শুরু করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) পরীক্ষা কয়েক ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে ১৬ দশমিক ১ মেগাপ্যাসকেল পরিচালন চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বজায় রেখে ১২টি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ মেগাপ্যাসকেল চাপে পরীক্ষা চালানোর সময় দুটি ভালভ নির্ধারিত পর্যায়ে খুলতে প্রথমে ব্যর্থ হয়। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

এর আগে ভালভে সমস্যা দেখা দিলে তা মেরামতে রাশিয়ার সহযোগিতা নেয় বাংলাদেশ। রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে এসে মোট নয়টি ভালভ মেরামতের কাজ করে। মেরামত শেষে ধাপে ধাপে শুরু হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

এই ভালভগুলোর মূল কাজ হলো রিঅ্যাক্টরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে তা নির্গত করে প্ল্যান্টকে নিরাপদ রাখা। ১৮ দশমিক ৬৫ মেগাপ্যাসকেল চাপে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভালভ একসঙ্গে খুলে অতিরিক্ত চাপ বের করে দেওয়ার কথা। পরীক্ষার সময় প্রথমে এ দুটি ভালভ খুলতে না পারায় নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। পরে পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হয়।

এ ছাড়া ১৮ দশমিক ১ মেগাপ্যাসকেল চাপের পর্যায়ে তিনটি ভালভের মধ্যে প্রথম ভালভটি খুলে অতিরিক্ত চাপ নির্গত করার পরীক্ষাও সফল হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ (এমসিআর) এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (ইসিআর)—দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাগুলো পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় ভালভের খোলা ও বন্ধ হওয়ার সময়, সাড়া দেওয়ার গতি, সতর্কসংকেত এবং প্রয়োজনীয় চাপ ও তাপমাত্রার তথ্য পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এখন প্রকল্পটির সামনে বড় ধাপ ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’। এ পর্যায়ে বায়রার অনুমোদন পাওয়ার পর রিঅ্যাক্টরে স্থিতিশীল ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হবে। এর আগে রিঅ্যাক্টরকে পূর্ণ নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটিতে নেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সিস্টেম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত পরামিতির কার্যকারিতা যাচাই করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটিসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এরপর শুরু হবে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়। তখন রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার কার্যক্রম চলবে।

এ জন্য অপারেটিং অর্গানাইজেশনকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বায়রা, বিদ্যুৎ গ্রিড-সংশ্লিষ্ট সংস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, সামরিক বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর শুরুতে শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩ শতাংশে রাখা হবে। পরে ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। উৎপাদন শুরু হওয়ার পরও কয়েক মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৩৩তম দেশ হিসেবে যুক্ত হবে।

এদিকে রূপপুর প্রকল্পের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারিত থাকলেও দুই দফায় তা বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। তবে ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির প্রভাবে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category