• বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

তত্ত্বাবধায়ক সরকার বদলাতেও লাগবে জনগণের অনুমোদন

newsline24 / ১৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বদলাতেও লাগবে জনগণের অনুমোদন
তত্ত্বাবধায়ক সরকার বদলাতেও লাগবে জনগণের অনুমোদন

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানে পুনর্বহালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে গেলেও জনগণের অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে বাদ পড়া গণভোটের বিধানও আসন্ন সংশোধনীতে পুনরায় যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের প্রতিনিধি ও ‘জুলাই যোদ্ধা’দের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামনে যে সাংবিধানিক সংশোধনী আনা হবে, সেখানে প্রস্তাবনা, রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি এবং মৌলিক বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন ও সংযোজনের প্রস্তাব থাকবে। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে এসব গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক গণভোটের প্রয়োজন হবে।

তিনি জানান, সংবিধানের ৪৮ ও ৫৬ অনুচ্ছেদেও পরিবর্তন আনার বিষয় রয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কেন আবার সংবিধানের কাঠামোয় ফিরবে, সেই বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান পুনরায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা একবার সংবিধানে ফিরিয়ে আনার পর ভবিষ্যতে কেউ যেন সহজে তা পরিবর্তন করতে না পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলে জনগণের কাছে গিয়ে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হবে।

গণভোটের বিধান বর্তমানে সংবিধানে নেই—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদ থেকে গণভোট বাদ দেওয়ার বৈধতা ছিল না। আদালত ওই পরিবর্তনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন এবং আগের বিধানকে সঠিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে ‘ডকট্রিন অব ইক্লিপস’-এর কথাও উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো সাংবিধানিক পরিবর্তন আদালতে অসাংবিধানিক ঘোষিত হলে আগের সাংবিধানিক অবস্থান কার্যকর হওয়ার প্রশ্নটি এ নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে সংসদে সংশোধিত সংবিধানে বিষয়টি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত না করা পর্যন্ত এর বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

সংবিধানে গণভোটের বিধান যুক্ত হওয়ার ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৭৯ সালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ অনুচ্ছেদে গণভোটের বিধান যুক্ত করা হয়েছিল। পরে ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাদ দেওয়া হয়। একই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও সংবিধান থেকে বাতিল করা হয়েছিল।

২০২৬ সালের ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চদশ সংশোধনীর মূল অংশগুলো অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রাখেন। ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের বিষয়টি নতুন করে সাংবিধানিক আলোচনায় আসে।

আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার পর আইন মন্ত্রণালয় সংবিধানের সংশোধিত রূপ বা নতুন একটি টেক্সট প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে। সেখানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাদ পড়া গণভোটের বিধান এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধান পুনঃস্থাপনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ফলে আসন্ন সাংবিধানিক সংশোধন শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ভবিষ্যতে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ এসব বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও জনগণের সরাসরি অনুমোদন নেওয়ার একটি সাংবিধানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category