আগামী তিন মাসের মধ্যে রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় স্থানান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে বাসের টার্মিনাল ও ডিপো আলাদা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে মহাখালী বাস টার্মিনালের জন্য নতুন করে বরাদ্দ করা জায়গা পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার। এ সময় বাস মালিক সমিতির নেতারাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নতুন জায়গায় প্রায় ৮০টি বাস রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর যানজট কমাতে বাস টার্মিনাল ও ডিপোর কার্যক্রম আলাদা করার কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মহাখালী বাস টার্মিনাল বর্তমান জায়গায় থাকলেও এর ডিপো পূর্বাচলে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলো শহরের ভেতরে থাকায় এসব এলাকায় বাসের চাপ, যাত্রী ওঠানামা এবং পার্কিংয়ের কারণে সড়কে যানজট তৈরি হয়। টার্মিনাল ও ডিপো পৃথক করার পরিকল্পনার লক্ষ্য হচ্ছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাসের অপ্রয়োজনীয় অবস্থান ও চলাচলের চাপ কমানো। রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনালকে ধাপে ধাপে শহরের বাইরে নেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া, তেঘরিয়া আন্ডারপাস, হাসনাবাদ ও কাঁচপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে স্থান নির্বাচন এবং পরবর্তী ধাপে স্থানান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে মিরপুরে সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানে হামলা ও গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় করা মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মহাখালী বাস টার্মিনালের নতুন জায়গা পরিদর্শনের সময় বাস মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা বলেন, রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোর আশপাশের যানজট কমাতে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। নতুন ডিপো ও টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে করা গেলে রাজধানীর সড়কে বাসের চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।