দেশের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মীর প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা দেওয়ার পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যার মাধ্যমে মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে পৌঁছানো যায়। এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় ৮০ শতাংশ নারীকে যুক্ত করার কথা জানান তিনি।
নিয়োগপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা মূলত তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করবেন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পরামর্শ দেবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষাকেও এ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণে সরকারের সামগ্রিক কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এখন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সেগুলোর বাস্তবায়নে এগিয়ে যাওয়ার সময় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির ক্ষেত্রেও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষণে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘কৃষক কার্ড’ ও ‘হেলথ কার্ড’-এর বিষয়টি উঠে আসে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শুরুতে সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারগুলোকে এ সহায়তার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষিসেবা ও বাজারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হেলথ কার্ডের লক্ষ্য সবার জন্য চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার সহজ করা। ভবিষ্যতে ইউনিভার্সেল কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা এক সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও ভাষণে জানান প্রধানমন্ত্রী।
‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এ প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সম্মেলনের এবারের আলোচনায় ভূরাজনীতি, নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবারস্পেস, বাণিজ্য, জলবায়ু ও মানব নিরাপত্তার মতো বিষয় স্থান পেয়েছে।