• শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন

কৃষক কার্ডে ১০ সেবা, এ বছর আওতায় ৪৩ লাখ কৃষক

newsline24 / ২০ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
কৃষক কার্ডে ১০ সেবা, এ বছর আওতায় ৪৩ লাখ কৃষক
কৃষক কার্ডে ১০ সেবা, এ বছর আওতায় ৪৩ লাখ কৃষক

চলতি বছর পর্যায়ক্রমে দেশের ৪৩ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনায় সহায়তার পাশাপাশি সরকারি প্রণোদনা ও অন্যান্য কৃষিসেবা আরও সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক এই কর্মসূচির আওতায় আসছেন।

বুধবার ফেনীর ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ডের পাইলট কার্যক্রমের প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান মন্ত্রী। অনুষ্ঠানে কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে যাঁরা কার্ডের আওতায় আসছেন, তাঁদের মধ্যে ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ কেনার জন্য ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষককে দেওয়া হবে কার্ডের মুদ্রিত কপি।

আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার। বৃহত্তর পরিকল্পনায় দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।

কৃষক কার্ডকে শুধু পরিচয়পত্র হিসেবে না দেখে কৃষকের জন্য সরকারি সেবা পাওয়ার একটি সমন্বিত মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ কেনায় সহায়তা, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষি খাতে অন্যান্য সহায়তা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় যেসব সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নগদ সহায়তা ও সরকারি প্রণোদনা, কৃষি উপকরণ কেনায় সহায়তা, সেচ সুবিধা, কৃষিঋণ, কৃষিযন্ত্র, আবহাওয়ার তথ্য, বাজারসংক্রান্ত তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগবালাই মোকাবিলায় পরামর্শ এবং কৃষি বীমার মতো সেবা। এর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির সুযোগ তৈরির বিষয়টিও কর্মসূচির পরিকল্পনায় রয়েছে।

পাইলট কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের তথ্যভিত্তিক একটি ডাটাবেজ তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরকারি সহায়তা কারা পাচ্ছেন, কোন কৃষকের কী ধরনের প্রয়োজন এবং কীভাবে দ্রুত সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়—এসব ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনায় আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন, স্যাটেলাইট, প্রযুক্তিনির্ভর সেচ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, কৃষির যান্ত্রিকীকরণ ও ডিজিটাল সেবাকে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে।

সরকারের বৃহত্তর লক্ষ্য হিসেবে কৃষককে শুধু উৎপাদক হিসেবে নয়, কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, সরকারি সহায়তা সহজ করা এবং কৃষিকে আরও আধুনিক ও টেকসই করার মাধ্যমে এ খাতকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাইলট পর্যায়ের এই কার্যক্রম সফলভাবে এগোলে ধাপে ধাপে আরও বেশি কৃষক কর্মসূচির আওতায় আসবেন। ৪৩ লাখ কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করার চলতি বছরের লক্ষ্য পূরণের পর বৃহত্তর পরিসরে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে যাবে কর্মসূচিটি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category