সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সাইবার আইনের অপপ্রয়োগ ঠেকাতে বিশেষ সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতি নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনটির খসড়া নিয়ে গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সভাপতিত্ব করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে আইনটি তৈরি করা হচ্ছে না। বরং আইনটি যেন কোনোভাবেই নিপীড়নমূলক হয়ে না ওঠে এবং সাংবাদিকরা যাতে এর অপপ্রয়োগের শিকার না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, খসড়া আইন নিয়ে গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সম্পাদক, সাংবাদিক, সাইবার বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকার সংগঠন, শিক্ষকসহ বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত সমন্বয় করে আগামী ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সুপারিশ চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সাংবাদিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি আইনে ‘সেভিং ক্লজ’ রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব এসেছে। এতে কোনো ব্যক্তি দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়ায় আটকে থাকার ঝুঁকি কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সুপারিশগুলো সমন্বয়ের পর খসড়াটি আবারও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নতুন করে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব পাওয়া গেলে সেগুলো খসড়ায় যুক্ত করা হবে।
পরবর্তী ধাপে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে বিল আকারে তা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদেও বিলটি নিয়ে আলোচনা ও মতামতের সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন এবং তরুণদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই আইনটি তৈরি করা হবে। দেশের সংস্কৃতি ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আন্তর্জাতিক মানও বিবেচনায় নেওয়া হবে।