বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া বা বিদ্রোহ করা নেতাকর্মীদের ভবিষ্যতে আর দলে জায়গা দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামেন বা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন, তাদের বিষয়ে ভবিষ্যতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। বিদ্রোহীদের বিএনপিতে আর কখনো জায়গা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কোনো পরিবার যেন গৃহহীন অবস্থায় না থাকে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দেওয়া আর্থিক সহায়তা শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে এবং বসতঘর পুনর্নির্মাণে সহায়তা করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের উদ্যোগে বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকায় মানুষের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সরকারি ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বন্যাদুর্গত পরিবারের সদস্যরা সরকারি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের প্রত্যাশা, ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে এই অর্থ কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবের রহমান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা করেন জেলা পরিষদের সচিব খন্দকার আরাফাত হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, বাংলাদেশ এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর প্রধান ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, পটিয়ার এমপি এনামুল হক, ইদ্রিস মিয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান আহমদ, আমিনুর রহমান চৌধুরী, কামরুল ইসলাম হোসাইনী, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম জেলা জজ ও দায়রা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতির বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন বলে একই দিনের পৃথক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।