
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শোভাযাত্রাসহ দিবসটি পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, শনিবার শোভাযাত্রা শুরুর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। একই সময়ে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরেও ফাতেহা পাঠ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে।
এরপর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মূল শোভাযাত্রা শুরু হবে। রিজভীর দেওয়া কর্মসূচির বিবরণ অনুযায়ী, শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে যাত্রা করে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছাকাছি গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দিয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি গত ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। শনিবার দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরেও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার লাগানোসহ নানা কর্মসূচি পালন করবে।
রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, রাজনৈতিক জোট, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও দিবসটি পালনে নিজ নিজ উদ্যোগে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফলে এবারের আয়োজন শুধু বিএনপির দলীয় কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিভিন্ন মহলের অংশগ্রহণেও দিবসটি পালিত হবে বলে আশা করছে দলটি।
দিবসটির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও উদ্যাপনের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ৭ নভেম্বরের চেতনার প্রতি ভীত হয়ে দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বন্ধ করেছিল। বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব উদ্যোগে দিবসটি পালন করে আসছে। এবার দীর্ঘ বিরতির পর দিবসটি আবারও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয়ভাবে পালিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা এখন আর শুধু রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাধারণ মানুষের মধ্যেও দিবসটি নিয়ে আগ্রহ ও আবেদন তৈরি হয়েছে। এ কারণে এবারের কর্মসূচিতে ব্যাপক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করছে দলটি।
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। দিনটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মহল ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে মূল্যায়ন করে। বিএনপি দিনটিকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে এবং দলটির রাজনৈতিক ইতিহাস ও আদর্শের সঙ্গে এর বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দিবসটি ঘিরে প্রতিবছরই দলটির পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচি নেওয়া হয়।
শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত তারিকুল আলম তেনজিং উপস্থিত ছিলেন। শনিবারের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর নয়াপল্টন, বাংলামোটর, ফার্মগেট ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি এবং যান চলাচলে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এসব এলাকায় চলাচলকারীদের কর্মসূচির সময়সূচি ও সম্ভাব্য ট্রাফিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে যাতায়াত পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।