বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—আজ মঙ্গলবার ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন ভাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে আবারও আলোচনায় এসেছে জিয়াউর রহমানের ঘোষিত সেই ১৯ দফা। বিএনপির নেতাদের মতে, দেশের সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও আত্মনির্ভরতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়গুলোতে এই কর্মসূচিতে যে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান সময়েও প্রাসঙ্গিক।
১৯ দফা কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা, জাতীয়তাবাদ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার ধারণাও কর্মসূচিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি ১৯ দফায় দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে। কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের বিষয়গুলো সেখানে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। খাদ্য, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি নারীর অধিকার ও যুবসমাজের ভূমিকার বিষয়টিও ১৯ দফায় রয়েছে। তরুণদের দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং তাঁদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর বিষয়টি এ কর্মসূচির অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও ১৯ দফায় গুরুত্ব পেয়েছে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি কমিয়ে প্রশাসন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
বিএনপির নেতারা মনে করেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও রাজনীতিতে নানা পরিবর্তন এলেও ১৯ দফায় উত্থাপিত কয়েকটি মৌলিক লক্ষ্য এখনো উন্নয়ন ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, নারীর অধিকার, যুবসমাজের অংশগ্রহণ এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপের মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
দলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের সঙ্গে ১৯ দফার সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় জাতীয়তাবাদ, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার পাশাপাশি জনগণের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল। বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় তাই ১৯ দফা বারবার সামনে আসে।
৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলটির নেতাকর্মীদের কাছে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও রাজনৈতিক আদর্শ নতুন করে স্মরণ করার পাশাপাশি বর্তমান বাস্তবতায় দলীয় কর্মসূচি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ১৯ দফার বিভিন্ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সময়ের সঙ্গে কী ধরনের পরিবর্তন বা নতুন ব্যাখ্যার প্রয়োজন, সেটিও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে।
বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ১৯ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়; দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত একটি দিকনির্দেশনামূলক কাঠামো। ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সেই কর্মসূচির বিভিন্ন দিকই দলের রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।